সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
ফাতেমা তুজ জোহরা, নজরুলসঙ্গীতে একেবারে প্রথম সারির শিল্পী। আধুনিক গানেও তার কণ্ঠের মাধুর্যতা অতুলনীয়। অভিনয়ও করেছেন টিভি নাটকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনা, উপস্থাপনাসহ নজরুল বিষয়ক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। নজরুল বিষয়ক প্রচুর পড়াশোনা রয়েছে তার। একটি কবিতার বই, দুটি ছড়ার বই, একটি উপন্যাস, একটি গল্প ও কলাম সংকলন এবং নজরুলের গান নিয়ে একটি সঙ্গীতের বই প্রকাশ করেছেন। আজ ১২ ভাদ্র। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৭তম প্রয়াণ দিবস।
আজ নজরুলের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে কী করছেন?
এদিনটিতে আসলে আমার কিছু করা হচ্ছে না। কী আর করব এখন তো আমরা বুড়ো হয়ে গেছি। এখন আমরা প্রবীণদের দলে চলে গেছি। তাই আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমাদের এসব অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না। এখন আয়োজকরা যাদের এসব অনুষ্ঠানে ডাকেন তারা সবাই তরুণ-তরুণী। তারাই এসব অনুষ্ঠানে থাকেন। আমাদের এসব অনুষ্ঠানে ডাকা ও স্মরণ করাও হয় না। তবে চ্যানেল আইতে ‘তৃতীয় মাত্রা’ বলে একটা অনুষ্ঠান আছে। সেখানে নজরুল বিষয় একটা আলোচনা আছে। রেকর্ডও করা হয়ে গেছে। এটা আজ রাতে নাকি কাল প্রচারিত হবে, তাও আমার মনে নেই।
রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী বা প্রয়াণ দিবস যতটা স্মরণে থাকে নজরুলের ক্ষেত্রে এটা হলো না কেন?
আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে কথা না বলাই ভালো। তাহলে সাধারণ মানুষ এটাকে বড় করে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। এই যে তার জন্মদিন বা প্রয়াণদিন কোন তারিখে এটা যদি কেউ স্মরণে না রাখতে না পারে তো সেটাকে আমি মানুষের ভুল মনে করব না সেটা যিনি স্মরণে রাখতে পারলেন না সেটা তার নিজের ভুল। যে, তার জন্ম ১১ জ্যৈষ্ঠ নাকি ১২ কিংবা তার মৃত্যু ১২ ভাদ্র নাকি ১৩ এটা কেউ ভুল করলেও বাঙালি সবাই জানেন তার জন্মদিন কবে বা মৃত্যুদিন কবে। এটা ঠিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন দুই বাংলাতেই খুব ঘটা করে অনুষ্ঠিত হয়। তবে তুলনা করে এসব আলোচনায় না আসাটাই আমি ভালো মনে করি। এখন যদি বাঙালি জানেন নজরুল ইসলাম কিংবা রবীন্দ্রনাথ কী, বাঙালি জীবনে তাদের অবদান কী তখন এইসব ছোটখাটো ভুল নিয়ে কথা না বলাই ভালো।
বর্তমানে নজরুল চর্চা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কেমন? বিটিভিতে নজরুলের চর্চা হয়। তবে বেসরকারি পর্যায়ে নজরুল চর্চা বলতে গেলে হচ্ছেই না বলতে হয়। দু’একটি বেসরকারি চ্যানেল ছাড়া সবাই নজরুলকে উপেক্ষাই করে চলেছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ লেভেলেও নজরুল সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলেন। এই ১০ দিন আগেও আমাকে একজন বললেন, ‘নজরুল অনেক গরিব ছিলেন’। কথাটা শুনে আমার অন্তরাত্মা সঙ্গে-সঙ্গেই জ্বলে উঠলো এবং তৎক্ষণাৎ আমি প্রতিবাদ করে উঠি। নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথ দু’জনেরই ব্যক্তিগত জীবনে দুঃখ ছিল কিন্তু তাই বলে তো কাউকে ম্যানশন করে এটা বলা যাবে না নজরুল ‘গরিব’ ছিলেন কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘এইট পাশ’ ছিলেন! নজরুল বিষয়ে একজন পিএইচডি করা ভদ্রলোকও আমাকে বললেন, ‘নজরুল শিক্ষিত ছিলেন না’। কথাটা শুনে আমি প্রতিবাদ না করতে পারলেও আমার মনটা খুব কষ্টে মোচড়ে উঠল।